বাংলাদেশের নৌপরিবহন, সড়ক পরিবহন, রেল ও সেতু মন্ত্রী শেখ রবিউল আলম (যিনি সম্প্রতি এই দায়িত্ব পেয়েছেন) ঈদ-পূর্ববর্তী যাত্রা প্রস্তুতি সভায় এই বক্তব্য দিয়েছেন। একাধিক স্বাধীন সোর্স, যেমন দৈনিক আমাদের সময়, আমেরিকা বাংলা, আমার সংবাদ, প্রথম আলো এবং সারা বাংলা, এই বক্তব্যের উল্লেখ করেছে। বক্তব্যের মূল অংশ: "বাস মালিক ও সমিতি সংগঠন যদি সমঝোতার ভিত্তিতে চাঁদা গ্রহণ করে, সেটা বৈধ। কিন্তু অবৈধ উপায়ে কেউ চাঁদাবাজি করলে সেটা বৈধ হবে না।" এটি পরিবহন সেক্টরে মালিক-শ্রমিক সমিতির ফি বা অবদানকে "সমঝোতা" হিসেবে দেখা হচ্ছে, যা ঈদ যাত্রা নির্বিঘ্ন করার প্রসঙ্গে উঠে এসেছে। বাংলাদেশের পরিবহন খাতে চাঁদাবাজি একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা, যেখানে সমিতি বা রাজনৈতিক দলের নামে জোরপূর্বক অর্থ আদায় হয়, যা যাত্রীদের ভাড়া বাড়ায় এবং নিরাপত্তা হুমকি সৃষ্টি করে। মন্ত্রীর বক্তব্য চাঁদা (স্বেচ্ছায় দেওয়া ফি) এবং চাঁদাবাজি (জোর করে আদায়) এর মধ্যে পার্থক্য তুলে ধরে। তিনি এটাকে "অলিখিত বিধি" বলে উল্লেখ করেছেন, যা সমিতির কল্যাণকর কাজের জন্য ব্যয় হয় বলে দাবি করেছেন। এটি ঈদ যাত্রায় সড়ক-নৌপথে বিশেষ নজরদারির প্রতিশ্রুতির সাথে যুক্ত, যাতে অবৈধ চাঁদাবাজি রোধ করা হয়।
বক্তব্যটি ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে। জামায়াতে ইসলামী এটাকে "সমঝোতার নামে চাঁদাবাজিকে বৈধতা" বলে নিন্দা করেছে এবং বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে। এমপি মিলনসহ অন্যান্যরা এটাকে চাঁদাবাজির প্রশ্রয় হিসেবে দেখছেন। প্রথম আলোতে উল্লেখ হয়েছে যে এটি আওয়ামী লীগের পতনের পর বিএনপি-পন্থী নেতাদের হাতে চলে যাওয়া চাঁদাবাজির প্রসঙ্গে এসেছে, যা রাজনৈতিকভাবে সংবেদনশীল। সমালোচকরা বলছেন, এটি দুর্নীতিকে উৎসাহিত করতে পারে, বিশেষ করে যেখানে "সমঝোতা" এবং "জোর" এর মধ্যে লাইন অস্পষ্ট।
ইতিবাচক দিক থেকে, এটি অবৈধ চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে কঠোরতার ইঙ্গিত দেয়, যা স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বে ফেলা হয়েছে। কিন্তু নেতিবাচকভাবে, এটি সমিতিগুলোকে আরও শক্তিশালী করে তুলতে পারে, যা যাত্রীদের উপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে। বাংলাদেশে চাঁদাবাজি একটি "ক্যান্সার" হিসেবে বর্ণিত হয়েছে কিছু মন্তব্যে, এবং এই বক্তব্য তা নির্মূলের পরিবর্তে সহনীয় করে তুলতে পারে। সামগ্রিকভাবে, এটি সরকারের পরিবহন নীতির উপর প্রশ্ন তোলে, বিশেষ করে নতুন মন্ত্রীর প্রথম সংবাদ সম্মেলনে।